সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টে সরকার পরিবর্তন হলে এই মোল্লা কফিল পাবনা ত্যাগ করেন। এরপর তার ফেসবুকে আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত সকল তথ্য উপাত্ত ডিলেট করে দিয়ে সুশিল সেজে বিভিন্ন রকমের পোস্ট দেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর বেগম খালেদা জিয়াসহ জিয়া পরিবারের ছবি তার ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছেন। Reading Time: 4 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা : পাবনা :
পাবনার একমাত্র সমালোচিত ও বির্তকিত ব্যাক্তি মোল্লা মোঃ কফিল উদ্দিন ওরফে ড. কফিল উদ্দিন। তিনি আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের লোগো ব্যবহার করে কখন হাজি সাহেবের পোশাকে আবার কখনও শিক্ষাবিদ আবার কখনও রাজনীতিবীদের পোষাকে পাবনা শহরে পোষ্টার-বিলবোর্ড টাঙিয়ে সমালোচনার পাত্র হয়েছেন। নিজের নামের আগে ড. ব্যবহারের পাশাপাশি কখনও প্রস্তাবিত শেখ রাসেল ইউনির্ভাসিটির ভাইস চ্যান্সেলর আবার কখনও শেখ রাসেল মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক উপাধি লাগিয়ে আওয়ামীলীগের সর্বচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার নামে। এদিকে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের কথা প্রচার করলেও সেটা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তার নামে প্রকাশিত প্রস্তাবিত শেখ রাসেল ইউনির্ভাসিটির প্রকাশনায় জাতিয় “দৈনিক সালাম বাংলাদেশ” নামে একটি আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা রয়েছে। পত্রিকাটি অনিয়মিত বের করার কারনে ডিক্লারেশন বাতিল করে দেয় কর্তৃপক্ষ। পরে হাইকোর্টে রিট করে পত্রিকা বের করার অনুমতি পায়। দৈনিক সালাম বাংলাদেশ প্রকাশ করে প্রশাসনের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা আদায় করতেন। এমনকি মোল্লা কফিলের স্বার্থে আঘাত লাগলে পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করে বøাক মেইলিং করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পত্রিকায় সাংবাদিক নিয়োগের নামে নিয়োগ বাণিজ্য করে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়ে বিপদে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাবনার নামী দামি দোকানেও তার নামে রয়েছে লাখ লাখ টাকার বাকির খাতা। আওয়ামীলীগের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পাবনা, নাটোর, রাজবাড়ি, খুলনা, ফরিদপুরসহ একাধিক জেলায় আওয়ামী পরিবার অথবা ওই এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্যের নামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরী করে এমপিও ভুক্তির কথা বলে জনবল নিয়োগের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পাবনা, ঈশ্বরদী, ঢাকা, কক্সবাজারসহ দেশের নানা স্থানে নামে-বেনামে বাড়ি, ফ্লাট, প্লট কিনে আলিশান জীবন যাপন করছেন। এদিকে তার ফাঁদে পা দিয়ে শত শত মানুষ নিঃস্ব, সর্বশান্ত। শুধু আওয়ামীলীগের প্রভাব দেখিয়ে সবাইকে চুপ করে থাকতে বাধ্য করতেন মোল্লা কফিল। তার অধিনস্থ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বেতন ঠিকমত দেওয়া হত না। এদিকে তার প্রতিষ্ঠিত সিংগা এলাকায় মুজিব প্যালেসে কমিউনিটি নাসিং এ ছাত্র-ছাত্রীদের জিম্মি করে টাকা আদায় করার অভিযোগে আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে একাধিকবার গমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া সে বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছ থেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠান বানিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে তা দখল করে মামলা করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে মোল্লা কফিলের বিরুদ্ধে। তার প্রতারণার হাত থেকে আইনজীবি, সাংবাদিক, ডাক্তার ও সাধারণ মানুষ কেউ রেহায় পায়নি। আওয়ামীলীগ সরকারকে খুশি করতে শেখ ফজিলাতুন্নেসা, শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা, শেখ রাসেল ও শেখ কামালের নামে একাধিক বই প্রকাশ করে আওয়ামীলীগের আস্থা অর্জন করেন। জুলাই বিপ্লবের পর সব বই পুড়িয়ে বা নদীতে ফেলে ধ্বংস করার অভিযোগ রয়েছে। শেখ মুজিবের নামে একটি নাটক তৈরী করেছিলেন। শেখ মুজিবের চরিত্রে মোল্লা কফিল অভিনয় করেন। এদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টে সরকার পরিবর্তন হলে এই মোল্লা কফিল পাবনা ত্যাগ করেন। এরপর তার ফেসবুকে আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত সকল তথ্য উপাত্ত ডিলেট করে দিয়ে সুশিল সেজে বিভিন্ন রকমের পোস্ট দেন।

বিএনপি সরকার গঠনের পর বেগম খালেদা জিয়াসহ জিয়া পরিবারের ছবি তার ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছেন।
বিএনপি সরকার গঠনের পর বেগম খালেদা জিয়াসহ জিয়া পরিবারের ছবি তার ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে বিএনপি সাজার চেষ্টা করছেন। আওয়ামীলীগের দোষর মোল্লা কফিল ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জাতিয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হতে ঈশ^রদী-আটঘরিয়া পাবনা ৪ ও বেড়া-সাথিয়া-পাবনা ১ আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন তুলেছিলেন। পাবনা ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক ডিপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর নামে ২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্য করেন। তার পাবনা কমিউনিটি নার্সিং এন্ড হাসপাতালের পিয়ন সোহেল, অফিস সহকারী আব্দুল মতিনসহ একাধিক কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন বকেয়া রেখে তিনি পাবনা থেকে পালিয়ে যান। লতিফ টাওয়ারে অবস্থিত তার কোরাব ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস অফিসটি বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছ থেকে টাকা আত্মসাত করে পালিয়ে যাবার কারনে লতিফ টাওয়ারের মালিক পক্ষ অফিসটি তালা ভেঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রনে নেয়। অভিযোগ রয়েছে অফিসের ভাড়া বাবদ প্রায় ২০ লাখ টাকা বাকি রয়েছে। এদিকে ওমরা হজ¦ ও বিদেশে লোক পাঠানোর নামে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। মোল্লা কফিল ২০১৬ সালে সম্পদের কর ফাকি ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে দুদুকের দায়েরকৃত মামলায় হাজতে যেতে হয়েছে। এদিকে চেক জালিয়াতি ও দলিল জালিয়াতি মামলায় তাকে একাধিক বার জেলে যেতে হয়েছে।

পাবনা : পাবনার একমাত্র সমালোচিত ও বির্তকিত ব্যাক্তি মোল্লা মোঃ কফিল উদ্দিন ওরফে ড. কফিল উদ্দিন। তিনি আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে শেখ মুজিব, শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের লোগো ব্যবহার করে কখন হাজি সাহেবের পোশাকে আবার কখনও শিক্ষাবিদ আবার কখনও রাজনীতিবীদের পোষাকে পাবনা শহরে পোষ্টার-বিলবোর্ড টাঙিয়ে সমালোচনার পাত্র হয়েছেন।
পাবনা বারের সিনিয়র আইনজীবি এ্যাডভোকেট কাজি আলম বলেন, মোল্লা কফিল আমার বাড়ি ভাড়া নিয়ে ঠিকমত ভাড়া দিত না। একারনে তাকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দিলে সেই সময়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী নিয়ে আমার বাসভবন ভাংচুর করে। পরবর্তিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তির মধ্যস্থতায় ভাংচুর বাবদ ক্ষতি পুরন দিয়েছিল । তিনি এও জানান মোল্লা কফিলের নামে একটি মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এদিকে একটি সুত্র জানায়, প্রতারনা ও বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। ড. মোঃ মোল্লা কফিল পাবনা বেড়া উপজেলার নাকালিয়া গ্রামের মোঃ আবু বক্কার মোল্লার ছেলে। এসব অপকর্মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মুঠো ফোনে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।